
জানাজার নামাজের নিয়ম ও ফজিলত:
মাওলানা মোহাম্মদ অলিউল্যাহ
কোনো মুসলিম মারা গেলে মাগফিরাতের জন্য মরদেহ সামনে নিয়ে বিশেষ নিয়মে যে দোয়া করা হয়, তাকে জানাজার নামাজ বলে। ‘জানাজা’ শব্দের অর্থ মরদেহ। জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কেফায়া, অর্থাৎ কিছু সংখ্যক মুসলমান যদি আদায় করে তাহলে মহল্লার সবাই এর দায়িত্ব মিটিয়ে ফেলে; কিন্তু কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হয়।
জানাজার নামাজের অংশগ্রহণ শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য আবশ্যক। নারীরা এতে অংশগ্রহণের বিধান নেই। পবিত্রতা ছাড়া জানাজার নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়।
জানাজার নামাজের নিয়ম হল, প্রথম তাকবিরের পর সানা পাঠ করতে হবে, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পড়তে হবে। এরপর তৃতীয় তাকবিরের পর দোয়া করতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
সংক্ষেপে জানাজার নামাজের নিয়ম হচ্ছে মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে সবাই একত্র হয়ে দাঁড়াবেন এবং চারবার ‘আল্লাহু আকবার’ তাকবির বলবেন।
জানাজার নামাজের নিয়ত করতে হবে মনে মনে, ‘আমি জানাজার ফরজে কেফায়া নামাজ চার তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আদায়ের নিয়ত করছি।’
তারপর কান পর্যন্ত হাত ওঠাতে হবে এবং তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবর) বলতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে—
উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’
অর্থ: হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনার। আপনি সব ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি থেকে পবিত্র। আপনার নাম মঙ্গলময় ও বরকতপূর্ণ, আপনার মহত্ত্ব অতি বিরাট, আপনার প্রশংসা অতি মহৎ এবং একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই।
এরপর (দ্বিতীয়) তাকবির বলে দরুদ পাঠ করতে হবে। এই তাকবিরে হাত ওঠাবেন না—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা–আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা–আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করুন, যেভাবে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ওপর বরকত দান করেছিলেন।
জানাজার নামাজের দোয়া করার সময় তৃতীয় তাকবির বলার পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে হবে। তখনো হাত উঠাবেন না। এরপর চতুর্থ তাকবির বলবেন এবং ডান ও বাঁ দিকে সালাম ফিরাবেন।
ইমাম তাকবির উচ্চ স্বরে বলবেন এবং বাকি দোয়া-দরুদ অনুচ্চ স্বরে পাঠ করবেন। মুক্তাদিরা সবই অনুচ্চ স্বরে তাকবির ও দোয়া-দরুদ পড়বেন।
মৃত ব্যক্তি যদি বালেগ পুরুষ বা নারী হয়, তবে এই দোয়া পড়তে হবে—
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফির লি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়েবিনা ওয়া সগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ইমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়া আলা তুদিল্লানা বা-দাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত এবং মৃত, উপস্থিত ও গায়েব, ছোট ও বড় এবং আমাদের নারী-পুরুষ সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যু দান করবেন, তাকে ইমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন।
মৃত যদি ছেলেশিশু হয়, তবে এই দোয়া পড়তে হবে—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআলহু লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহু লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহু লানা শা-ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দিন, তার জন্য যে দুঃখ, তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানান, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানান, যা আপনার দরবারে কবুল হয়।
আর মেয়েশিশু হলে এই দোয়া পড়তে হবে—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআলহা লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহা লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিআতাঁও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দিন, তার জন্য যে দুঃখ, তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানান, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানান, যা আপনার দরবারে কবুল হয়।
শিশুদের জন্য দোয়া করতে হবে—
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আইজহু মিন আজাবিল কবরি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি এই ছেলেটিকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’
একটি আরো দোয়া: ‘আল্লাহুম্মাজআলহু লানা সালাফান ওয়া ফারাতান ওয়া জুখরান ওয়া আজরান’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এই ছেলেটিকে (কিয়ামতের দিন) আমাদের অগ্রবর্তী ব্যবস্থাপক, রক্ষিত ভান্ডার ও সওয়াবের কারণ বানান।’
দোয়া দুটি কারও জানা না থাকলে:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লিলমুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুমিন নারী-পুরুষ উভয়কে ক্ষমা করুন।
চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। প্রথম তাকবির ছাড়া হাত না ওঠানো এবং নামাজিদের কাতার তিন, পাঁচ, সাত এইভাবে বিজোড় হওয়া আবশ্যক।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।